মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

এতিমখানা

 এতিমখানাকে রক্ষা করার দায়িত্ব সবার। স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা যে কঠিন সংকটের মধ্যে পড়েছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্বচ্ছতা, সততা ও বিবেকের মাধ্যমে কাজ করতে হবে।


আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর আজিমপুরে স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানার সভাকক্ষে এক আলোচনা সভায় আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল এসব কথা বলেন।

সুলতানা কামাল বলেন, ‘আমার কাছে আগে অভিযোগ এসেছে, এ এতিমখানার রক্ষকেরা ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। এতিমখানা নিয়ে বিভিন্ন অন্যায় কাজ হচ্ছে। এসব সমস্যার আশু সমাধান দরকার।’

২০০৩ সালে এতিমখানার দুই বিঘা জমিতে ভবন নির্মাণের জন্য কনকর্ডের সঙ্গে সাবেক কমিটির একটি চুক্তি হয়। এ চুক্তিতে এতিমখানার ভাগে কম অংশ থাকাসহ একাধিক কারণে কমিটির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। এতিমখানার কর্মকর্তা-শিক্ষার্থীরা এসব দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। এতে আন্দোলনকারীদের প্রশাসনের মাধ্যমে আটক করা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, খাবার ও কর্মকর্তাদের বেতন বন্ধ করাসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ওঠে কমিটির বিরুদ্ধে।

গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি কনকর্ডের সঙ্গে হওয়া চুক্তির বিরুদ্ধে আদালতে একটি রিট আবেদন করে এতিমখানার এক ছাত্র। আদালত এতিমখানার জমিতে সব ধরনের কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। 

অপরদিকে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের কমিটি অভিযোগের তদন্ত করে গত বছরের ১০ এপ্রিল প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। তা সত্ত্বেও কমিটির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ নিয়ে গত বছরের ২৮ মে প্রথম আলোয় ‘এতিমদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেও বহাল কমিটি!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এদিকে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত বছরের জুলাই মাসে আদালতে রিট আবেদন করা হয়। আদালত সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ কয়েকজনের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। নোটিশ পেয়ে চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি সমাজসেবা অধিদপ্তর কমিটি সাময়িক বরখাস্ত করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জসীম উদ্দিনকে এতিমখানার প্রশাসক নিয়োগ করে। আজ এতিমখানার নবনিযুক্ত প্রশাসকের সঙ্গে ওই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

|সুলতানা কামাল বলেন, ‘এ এতিমখানার সমস্যা সমাধানের জন্য দরকার ঐক্য, সততা ও সত্ সাহস। এগুলোই প্রধান শক্তি। এক্ষেত্রে আইন ও সালিশ কেন্দ্র সার্বিক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’
প্রশাসনকে দিয়ে এতিম শিক্ষার্থীদের আটক করা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের প্রসঙ্গ তুলে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক নূর খান বলেন, এতিমখানার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি এতিমখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

উপস্থিত কয়েকজন বক্তা কমিটির সংশোধিত গঠনতন্ত্র বাতিল, এতিমখানার জমিসংক্রান্ত কাগজপত্র সংগ্রহ, কনকর্ডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াসহ নবনিযুক্ত প্রশাসকের কাছে বিভিন্ন দাবি তোলেন।
সভায় সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা রাবেয়া বেগম, এতিমখানার শিক্ষার্থী হারুন অর রশিদসহ অনেকেই বক্তব্য রাখেন।